https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=3209093482435642&id=100000050663927

বাস্তবতার নিরিখে চিকিৎসকদের সহায়তা করুন, করোনাকে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখুন।

এ অফুরন্ত অবসরে এক শ্রেনীর মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের বাসার ড্রইং রুমে বসে নেটফ্লিক্স থেকে দিব্যি ফুর্তি করে কৌতূুক, নাটক, সিনেমা দেখে যাচ্ছে, বাজারের অধিকাংশ নিত্যকার পন্য মজুদ করে উদরপূর্তি করে কোপ্তা, কাবাব খাচ্ছে ;
আর আলসেমি কাটাতে বাংলাদেশের সম্মুখসারির Health Worker-দের নিয়ে নিজস্ব সামাজিক মাধ্যমে খিস্তি খেউর লিখছে, অবশ্য মাঝে মাঝে দু-চারটা আটা- লবনের প্যাকেট ১০-১৫ জন মিলে একজনকে দিয়ে ফটোশেসন করে ফেসবুকে আপ্লোড করছে।
চিকিৎসকদের Ethics মেনে চলতে হয়, আমরা ইচ্ছে করলেই যখন তখন আমাদের সন্মানিত ক্লায়েন্ট(রোগী বা তাদের অভিভাবক)-দেরকে কিভাবে সেবা দিচ্ছি তা Publicly প্রকাশ করতে পারিনা, তবুও কয়েকজনের অনুমতিক্রমে তা ফেবুতে দিতে বাধ্য হলাম, এ দেশের
চিকিৎসকরা কক্ষনোই লুকিয়ে থাকেনা-পালায় না-ভয় পায় না, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসও সে সাক্ষী দেয়, ৪৯ জন পেশাজীবি চিকিৎসক নিহত হয়েছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধে, দেশ ও জাতির প্রত্যেকটি ক্রান্তিলগ্নে ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে চিকিৎসকদের ভূমিকা অগ্রগন্য।
আপনাকে অনুধাবন করতে হবে, এ ডেঙ্গু বা কালাজ্বর বা কলেরা নয়। সারা দুনিয়াব্যাপী এক অপ্রতিরোধ্য, অদৃশ্য শক্তিশালী অনুজীব ছড়িয়ে পড়েছে, যা নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে খর্বাকৃতির বিজ্ঞ কর্মঠ চৈনিক জাতিকে, সমৃদ্ধ ইউরোপের সভ্যতাকে ধূলিস্যাৎ করে মৃত্যুর মিছিল বাড়িয়েই চলছে, শৌর্য-বীর্যে পরাক্রমশালী আমারিকার নার্স ও চিকিৎসকদের নাভিশ্বাস উঠছে…
এ সব বিবেচনায় এনে সারা দুনিয়ার সংক্রামক ব্যধি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেই আপনাকে করোনাক্রান্ত না করতে চেম্বার বা ক্লিনিকে আসতে অনুৎসাহিত করা হয়েছে, যে দেশে পর্যাপ্ত সুরক্ষা বর্মের অভাবে ডাক্তারদের মাঝে আহাজারি,আপনি কেন অযথা এ বিপদে নিজেকে সমর্পণ করবেন, আপনার যেহেতু সু্যোগ রয়েছে, আপনি বাসায় সুরক্ষিত থাকুন,প্রয়োজনে টেলি-পরামর্শ অথবা জটিল পরিস্থিতি হলে Video-conferencing করে রোগীর জন্য করনীয় জেনে নিন; প্রত্যেক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ সাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবভিত্তিক সাস্থ্য বাতায়নে আপনাদের সহায়তা করে যাচ্ছে, প্রাইভেট প্রাক্টিস বন্ধ থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা তাদের সহযোগীগণ নিজেদের রোগীদের নিত্যদিন ফোনে উপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। বিদগ্ধ অধ্যাপকগণ নিজেদের মাঝে প্রতিদিন যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যা উত্তরণের উপায় বাতলানোর চেষ্টা করছেন। এ মুহূর্তে একমাত্র চিকিৎসকরাই বাসায় থেকেও তাদের পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না, পালাক্রমে সরকারী হাসপাতালে কর্তব্য পালন শেষে বাসায় এসে ক্লান্তিহীনভাবে পূর্বের চেয়ে বেশী রোগীদের প্রতি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, ক্রমাগত রোগীদের ফ্রী পরামর্শ দিচ্ছে, প্রয়োজনে ক্লিনিকগুলোকে অবহিত করে সব রকমের সতর্কতা নিয়ে রোগী ভর্তি করছে, শুধু করোনা উপসর্গ থাকলে অবশ্যই অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে, সেটাও একান্তই এ দেশের সাধারণত মানুষের মঙ্গলের জন্য, এ সমাজের জন্য,এ রাষ্ট্রের জন্য।
—সুতরাং অযথা বাসায় বসে ঋনখেলাপী শিল্পপতিদের ছাপানো হলুদ পত্রিকা ও ডিজিটাল মিডিয়াগুলোর চটকদারী সংবাদে বিশ্বাস করে
কাল্পনিক ধারণার বশবর্তি হয়ে HEALTH WORKER-দের নিয়ে বিব্রতকর মন্তব্য করবেন না, মনে রাখবেন এখনো এ দেশের তরুণ মেধাবী নিবেদিতপ্রান চিকিৎসকরাই আপনার বিপদে ব্লাডগ্রুপ খুঁজে পাওয়া না গেলে বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে তাদের নিজেদের রক্ত আপনার শরীরে সঞ্চারিত করে দেয়। ওদের মতো মেধাবী যুব-যুবাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করবেন না, করোনা পরবর্তী বিশ্বে চিকিৎসক সংকট হবে ভয়াবহ,ওরা সহজেই OET, IELTS, PLAB, USMLE, AMC, CMC করে ওসব দেশে চলে যেতে পারবে, Please ওদের প্রতি বিষোদগার বন্ধ করুন, নইলে এই অভিমানী চিকিৎসক প্রজন্মকে এ জাতি হারাবে।
এ দেশের আমলাতন্ত্র ও দর্জিতন্ত্র(Garments Owners Association) নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে, তাদের পোষ্য খবরের কাগজ ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো দিয়ে অনেক হিসেব উল্টিয়ে দিতে পারে, কিন্তু একবার বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন এবং ভাবুন —
(১) ইতালি ও মধ্যপ্রাচ্য ফেরৎ প্রবাসী ভাইগুলোর অব্যবস্থাপনার জন্য কি চিকিৎসকরা দায়ী, কই সে নিয়ে তো বড় সংবাদ সম্মেলন হলোনা, আন্তঃমন্ত্রনালয়ের মাঝে সমন্নয়হীনতার দায় কেন এ দেশের হেলথ কমপ্লেক্সের নিরীহ কচি চিকিৎসকগণ নেবেন। ইহার পরেও একের পর এক ফ্লাইট আসতে থাকলো, আর নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সবাই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লো।
(২)করোনার ৩য় ফেজ চলাকালীন সময়ে ্ম্ম্ম্ম্ম্ম্ম্ হুটহাট করে মোবাইলে কল করে লাখ লাখ শ্রমিকদের ঝুঁকি নিয়ে রাজধানীতে কে আগমন ঘটালো? কোন বেনিয়ারা নিজেদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের জন্য এ প্রান্তিক পোশাক শ্রমিকদের মাঝে স্বেচ্ছায় করোনা উপসর্গ আলিংগনের মতো অবিবেচক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলো? এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্তের দায় তো চিকিৎসক সমাজ নিতে পারেনা।
(৩) পর্যাপ্ত পরিমাণে চিকিৎসা উপকরন ও সুরক্ষা সামগ্রীর যোগান না থাকা-ই প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো বন্ধের অন্যতম কারণ যা ‘আন্তঃমন্ত্রনালয় কেন্দ্রিক চিকিৎসা অব্যবস্থাপনা’– ইহাতে সাধারণ ডাক্তারদের কিছুই করার নেই।
বাস্তবতার নিরিখে চিকিৎসকদের সহায়তা করুন,তাদের নিকটজন ভাবুন ও তাদের দেয়া উপদেশ মেনে করোনাকে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখুন।

Leave a Comment